সূচনার গুরুত্ব
মুহূর্ত হল জ্যোতিষের সেই শাখা, যেখানে কোনো কাজ শুরু করার জন্য শুভ সময় বেছে নেওয়া হয়—বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, নামকরণ, ব্যবসা শুরু করা বা দীর্ঘ যাত্রা। ধারণাটি সহজ ও সুন্দর: সঠিক ঋতুতে বোনা বীজ যেমন ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, তেমনই কোনো কাজ যে মুহূর্তে শুরু হয়, সেই মুহূর্তের গুণ কাজটির মধ্যেও থেকে যায় বলে মনে করা হয়।
শব্দটির একটি নির্দিষ্ট অর্থও রয়েছে। এক মুহূর্ত হল 48 মিনিটের একটি সময়ের একক—এক দিন ও রাতের ত্রিশ ভাগের এক ভাগ। দিনের মধ্যে 15টি এবং রাতের মধ্যে 15টি মুহূর্ত থাকে।
প্রথমেই পঞ্জিকা
মুহূর্ত বিচার সাধারণত দিনের পাঁচটি অঙ্গ দিয়ে শুরু হয়:
- তিথি: অনেক প্রথায় নতুন কাজ শুরুর জন্য রিক্তা তিথি—চতুর্থী, নবমী ও চতুর্দশী—এড়িয়ে চলা হয়। অমাবস্যার আশপাশেও সাবধান থাকা হয়।
- বার: কাজের ধরন অনুযায়ী বার বেছে নেওয়া হয়। যেমন, বিদ্যাশিক্ষা ও আধ্যাত্মিক কাজের জন্য বৃহস্পতিবার—বৃহস্পতির দিন—শুভ বলে ধরা হয়।
- নক্ষত্র: ভিত্তি স্থাপন বা নির্মাণের কাজে রোহিণী ও তিন উত্তরার মতো স্থির নক্ষত্র পছন্দ করা হয়। ভ্রমণ, বিদ্যাশিক্ষা ও বাণিজ্যের জন্য অশ্বিনী, পুষ্যা ও হস্তার মতো লঘু নক্ষত্র বেছে নেওয়া হয়।
- যোগ ও করণ: ব্যতীপাত ও বৈধৃতি যোগ এবং বিষ্টি বা ভদ্রা করণ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
প্রতিদিনের যে সময়গুলি খেয়াল রাখবেন
অনেক পরিবার প্রতিদিন ফিরে আসে এমন কয়েকটি সময়ও দেখে নেন। রাহুকাল, যমগণ্ড ও গুলিককাল—এদের প্রতিটি দিনমানের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ, আর বার অনুযায়ী এগুলি দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ নতুন কাজ শুরু করার জন্য প্রথাগতভাবে এই সময়গুলি এড়িয়ে চলা হয়, যদিও নিয়মিত কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই করা যায়।
স্থানীয় মধ্যাহ্নের আশপাশের অভিজিৎ মুহূর্তকে সাধারণত শক্তিশালী ও শুভ সময় হিসেবে মানা হয়। পূর্ণাঙ্গ মুহূর্ত খুঁজে না পেলে এটি কাজে আসে। পশ্চিম ভারতের কিছু অঞ্চলে অনেক পরিবার চৌঘড়িয়াও দেখেন—এতে দিন ও রাত, দুটিকেই আটটি করে পর্বে ভাগ করা হয়।
ব্যক্তিগতভাবে মিলিয়ে দেখা
ভালো মুহূর্ত বেছে নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট মানুষদের কথাও বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত দুটি যাচাইয়ে দেখা হয় জন্মনক্ষত্র ও চন্দ্ররাশি:
- তারাবল: আপনার জন্মনক্ষত্র থেকে দিনের নক্ষত্র পর্যন্ত গুনে দেখা হয়, দিনের নক্ষত্রটি আপনার পক্ষে সহায়ক কি না।
- চন্দ্রবল: গোচরের চন্দ্র আপনার চন্দ্ররাশি থেকে শুভ কোনো ভাবে রয়েছে কি না, তা দেখা হয়।
বড় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জ্যোতিষী শুরুর সঠিক সময়ের জন্য উপযুক্ত একটি লগ্নও বেছে নেন। যে লগ্নে শুভগ্রহগুলি ভালো অবস্থানে থাকে, সাধারণত সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন, বিবাহের মুহূর্ত বাছার সময় পাত্র-পাত্রীর জন্মনক্ষত্র এবং বৃহস্পতি ও শুক্রের বল খুঁটিয়ে দেখা হয়। গৃহপ্রবেশের ক্ষেত্রে স্থির লগ্ন খোঁজা হয় এবং কিছু মাসকে বেশি উপযোগী ধরা হয়। আঞ্চলিক রীতিতেও পার্থক্য রয়েছে। তাই কেরলের একজন পারিবারিক পুরোহিত এবং গুজরাটের একজন পুরোহিত একই অনুষ্ঠানের জন্য সামান্য আলাদা সময় প্রস্তাব করলে সেটাই স্বাভাবিক।
মাত্রা বুঝে চলুন
কোনো মুহূর্তই সব দিক থেকে নিখুঁত নয়, আর প্রথাও কখনো সেই দাবি করেনি। বিচক্ষণ উপায় হল—যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতিকূল, সেগুলি এড়িয়ে চলা; আপনার পরিবারের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সত্যিই মেলে এমন সেরা সময়টি বেছে নেওয়া; তারপর পরিষ্কার মন ও শুভ সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করা।
হাসপাতাল, পরীক্ষা বা বিমানযাত্রার মতো পরিস্থিতির কারণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তারিখ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলে, সবার আগে সেই প্রয়োজনগুলিই মানুন। মুহূর্ত সহায়ক হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা দায়িত্ব পিছিয়ে দেওয়ার কারণ কখনো নয়।